১০ থেকে ১২ মাসে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ১২ মাস।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে। ইউপি, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যা চলতি মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।
তিনি বলেন, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব তথ্য জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। এ কারণে একযোগে নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্তকরণ এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২১ জুন। ওই ধাপে বরিশাল বিভাগের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে পরিষদের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে এসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে। আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে অতীতে সংঘাত ও সহিংসতার নজির রয়েছে। এ কারণে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি জোরদার হলেও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
