পদত্যাগপত্রে যেসব কথা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিজের শারীরিক অসুস্থতার বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং দায়িত্ব পালনকালীন সময়জুড়ে নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করেন। পরে আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

চিঠিতে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তার ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি এবং বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী দল জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।
স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়ে পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সবশেষে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
