১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সব গণপরিবহনে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্ত ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। একই সঙ্গে জিপিএসবিহীন কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ধারাবাহিকতায় ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে নির্ধারিত মানের জিপিএস ডিভাইস স্থাপন এবং তা সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গণপরিবহনের নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ প্রদান ও নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সচল রয়েছে কি না, সেটিও প্রদর্শন করতে হবে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি মান ও স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় কার্যালয় থেকে জানা যাবে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী ডিভাইস স্থাপনের পরই নিবন্ধন ও ফিটনেস-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য গণপরিবহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ, রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান, গতি ও রুট পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা, যেখানে-সেখানে গাড়ি থামানো এবং সড়কে বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে পরিবহন মালিকদের একটি অংশের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জের হতে পারে।
এদিকে, পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও তারা মনে করেন, শুধু জিপিএস সংযুক্ত করলেই সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক নিশ্চিতকরণ এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হবে।
