আগস্টের ৫ তারিখ কীভাবে হয়ে উঠল ‘৩৬ জুলাই’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ক্যালেন্ডারের হিসাবে দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের পর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার কাছে দিনটি পরিচিতি পায় ‘৩৬ জুলাই’ নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ- সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে এই প্রতীকী নাম, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের একটি স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ওই দিনই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জন নিহত হন। এরপর আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা সংস্কার হলেও আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।
জুলাইজুড়ে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটি প্রতীকী অঙ্গীকার গড়ে ওঠে- দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে ‘জুলাই’ শেষ হবে না। সেই ভাবনা থেকেই আগস্ট মাস শুরু হলেও তারা নতুন মাসের হিসাব গ্রহণ করেননি; বরং আগস্টের দিনগুলোকে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা করতে থাকেন।
এই প্রতীকী গণনায় ১ আগস্টকে বলা হয় ‘৩১ জুলাই’। একইভাবে ৪ আগস্ট পরিচিতি পায় ‘৩৪ জুলাই’ নামে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট, যেদিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন, সেই দিনটিকে আন্দোলনকারীরা ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মারক। তাদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতনের যে অধ্যায় রচিত হয়েছে, ‘৩৬ জুলাই’ সেই ইতিহাসেরই একটি স্থায়ী প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে।
