তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যান্ত্রিক ত্রুটি দূর হওয়ার পর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হলে ধীরে ধীরে পাইপলাইনের চাপ (প্রেসার) স্বাভাবিক হবে। যেসব এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে, সেখানেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার আগে যেভাবে গ্যাস সরবরাহ ছিল, পরিস্থিতি আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।
গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পর্যাপ্ত গ্যাস পায় না। ফলে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই সেগুলো আবার চালু করা হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, "যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে?"
বিদ্যুতের তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের কথা বলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিল যাচাইয়ের জন্য কেউ তা নিয়ে আসেন না।
তিনি আরও বলেন, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসের তুলনায় জুনে তাপমাত্রাও কম ছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, তার বিদ্যুৎ বিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা গেছে, ওই বাসায় দুটি এসি, ফ্রিজ, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহারের পরও ৭ হাজার টাকা বিলকে অতিরিক্ত বলে মনে করেন না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এটি ছিল নিয়মিত (রুটিন) বৈঠক। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
ভারত থেকে আগের তুলনায় বেশি ডিজেল চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে যে ডিজেল আসে, তার পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, "আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।"
