কাদের-সাদ্দামসহ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ দাবি জানিয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে এ শাস্তি দাবি করা হয়। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই গুরুতর এবং সেগুলো প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ হত্যা ও আহত করার ঘটনায় আসামিরা দায়ী বলে দাবি করেন তিনি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন উল্লেখ করে কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর।
ষষ্ঠ দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।
ট্রাইব্যুনালে এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ আগস্ট মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। প্রথম দিন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বান, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার প্রমাণ হিসেবে ওই সময়ের ফোনালাপ বা কল রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও আসামিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
