রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বৃহস্পতিবার ফখরুল-অলির ভোট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়। সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পিংক বাসের সেবা নিতে পারবে কি পুরুষরা?
ইসি সচিব জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। ভোটের ব্যালট পেপার মঙ্গলবারই প্রস্তুত করা হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন।
যেভাবে হবে ভোট
ইসি সচিবের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। এক অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন।
অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। পরে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
আরও পড়ুন: মহাসড়কে এআই ক্যামেরা চালু হলে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোট শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনা শেষে সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। এরপর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ব্যালট পেপারে সাদা কাগজের ওপর কালো রঙে লেখা থাকবে।
ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের আদেশে বাতিল হওয়ায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ব্যাংকের বাইরে টাকা জমাবেন যেভাবে
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দুই প্রার্থী থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর পরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিরোধী দলগুলো কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রী আমার দুলাভাই, শালী হিসেবে অনেক দাবি আছে’
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার আবারও রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
