কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ সংসদ সদস্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও ছয়জন ভোট দেননি।
নির্বাচন কমিশন গঠিত প্যানেলের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোট দেন।
বিকেল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভোট গণনা করেন এবং ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ভোটগ্রহণ শেষে জানা যায়, ছয় সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদ সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন-ভাতাসহ যেসব সুবিধা পান
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা ও সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের ভোট না দেওয়ার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে ভোট দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। ফলে ছয়জন সংসদ সদস্যই ভোট না দেওয়া সদস্য হিসেবে গণনায় থাকেন।
আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা
ভোটগ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আসনভিত্তিক ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছিল। সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন।
