কাটেনি সয়াবিনের সংকট, চড়া ডিম-মুরগির বাজার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশীয় বাজারে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানো হলেও কোম্পানিগুলো সরবরাহ না বাড়ানোয় রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনো এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। তবে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল অনেক দোকানেই মিলেছে।
নতুন মূল্য নির্ধারণের আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১৯৯ টাকা। সম্প্রতি তা ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
শান্তিনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, বুধবার নতুন দাম ঘোষণা করা হলেও বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়েনি। নতুন দামের পণ্য বাজারে না আসা পর্যন্ত কোম্পানিগুলোও স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার অর্ডার দেওয়ার পরও অল্প পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের কমিশনও আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন: ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মহিলা মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ আটক
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানকার কয়েকটি মুদি দোকানের মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিমাণে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সরবরাহ সংকট রয়েছে এবং নতুন দামের তেল এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে আসেনি।
সেগুনবাগিচা আবাসিক এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মো. তাহের বলেন, অর্ডার দিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি ২০০ টাকা দামের একটি বোতলে খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমিয়ে দেড় টাকা করা হয়েছে।
সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিয়ে সংকট থাকলেও ডিম ও মুরগির বাজারে দামের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির ডিম আগের সপ্তাহের মতো ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম এলাকাভেদে প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা। সোনালি মুরগিও আগের সপ্তাহের মতো ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং দেশি লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর মুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট পটল ও ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে লম্বা বেগুনের দাম এখনো ১০০ টাকার নিচে নামেনি। অন্যদিকে কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে।
বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম অবশ্য এখনো তুলনামূলক বেশি।
পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। আগে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
