প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘দ্বৈত প্রয়োগ’, জামায়াতের ওয়াকআউট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনে ‘দ্বৈত প্রয়োগ’ রাখা হয়েছে অভিযোগ করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
তারা বিলের আলোচনায় অংশ নেবেন না জানিয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।
এ সময় অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে আহ্বান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় বিল পাশের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, দুর্বল আইনের পাস করার অংশীদার হবো না। আমরা এ আইনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করছি না এবং আমরা এখন ওয়াকআউট করছি। জবাবে স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট করার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ।
আজ জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাশের জন্য উত্থাপন করেন আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাশের জন্য উত্থাপন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিল দুটো অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে সরকার।
আরও পড়ুন: ২৫১ গুমের বিচার নিয়ে যা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর
বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে যখন বিলগুলো বাতিল করা হয়, তখন বলা হয়েছিল যে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আরও ভালো আকারে তারা নিয়ে আসবে। মানবাধিকার সংক্রান্ত যে বিলটা এসেছে, সেখানে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনকে একটা ইউনিফর্ম অথরিটি দেওয়া হয় নাই।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিলে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ যদি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তার তদন্ত করতে পারবে।
শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ বিধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের দ্বৈত প্রয়োগ হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনী তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী, কিন্তু তারা এ দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের জন্য সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আরেক জায়গায় আটকে পড়ে যাবে—এটা হতে পারে না।
বিরোধী দলীয় নেতা ওয়াকআউট করার পরে স্পিকার বলেন, আপনাকে ওয়াকআউট করার জন্য ধন্যবাদ।
