নতুন পে স্কেলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনে বড় পরিবর্তন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য সমান হারে প্রযোজ্য হবে না। যারা কম পেনশন পান, তাদের বৃদ্ধির হার হবে বেশি; আর বেশি পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। ফলে পুরোনো ও কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুবিধা তুলনামূলক বেশি হবে।
তবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) ব্যবস্থা এবারই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এখনই নয় ‘এক পদ এক পেনশন’
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালুর কথা বলা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য হলো, একই পদ বা গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পেনশনের বড় ধরনের বৈষম্য কমিয়ে আনা।
আরও পড়ুন: বিরোধীদলীয় নেতার জন্য দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া একজন কর্মচারী একই পদে বর্তমানে অবসরে যাওয়া ব্যক্তির তুলনায় অনেক কম পেনশন পেয়ে থাকেন। ওআরওপি চালু হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে এই বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
তবে বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে এখনই পুরোপুরি এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এটি কার্যকর করতে গেলে সরকারের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি, ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত না থাকায় একবারে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘এক পদ এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেনশনে স্বস্তি, তবে ধাপে ধাপে
নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া যেসব সরকারি কর্মচারী বর্তমান মূল্যের তুলনায় অল্প পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়বে।
অন্যদিকে, ‘এক পদ এক পেনশন’ পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
