সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রকল্পে বিলম্ব ও অতিরিক্ত ব্যয় রোধে নজরদারি জোরদার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়ন প্রকল্প বারবার সংশোধন করে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি ও মূল্যায়ন জোরদার করছে সরকার। প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যয় নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও বরাদ্দের মধ্যে শেষ না হওয়ার পেছনে কোনো একক কারণ নেই। প্রকল্প প্রণয়নে দুর্বলতা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ঘাটতি, সঠিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব- এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্দেশনাগুলো যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি জানতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও নিয়মিত পর্যালোচনা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি- এমন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বিষয় এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস অথবা চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে একই ধরনের বা পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে ই-জিপির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনে প্রকল্প পরিচালকদের দায়িত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
