ডেঙ্গু ও হামের দ্বৈত প্রকোপ, দিশেহারা সাধারণ মানুষ
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে হাম ও এই অতি সংক্রামক রোগের উপসর্গে প্রাণহানি হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও লাফিয়ে বাড়ছে। হাম ও ডেঙ্গুর এই দ্বৈত প্রকোপে অনেকটাই দিশেহারা সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ঘরের মধ্যে রেখে শিশুদের হাম থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া গেলেও ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচা দায় হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা বয়স্কদের ক্ষেত্রেও। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত বয়স্করা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অন্য রোগীদের তুলনায় তাদের মৃত্যুঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি থাকে। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম।
জুলাই মাস থেকেই ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আগস্ট থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে অবনতি হতে পারে, তা নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন তারা। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে চিত্র মিলছে, তাতে লক্ষণ খুব একটা সুখকর নয়।
কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ডেঙ্গুর পিক সিজন বা সর্বোচ্চ সংক্রমণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হতে পারে। পিক সিজনে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজারের বেশি থাকবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ সময়ে এডিস মশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। নভেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনই কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। নভেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বুঝতে হলে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ মশার বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ামক কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বৃষ্টিপাত। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ জানান, ছাদবাগান, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণাধীন ভবনসহ বাড়ির বিভিন্ন আনাচ-কানাচে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি বা সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচির ওপর নির্ভর করলে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
বুধবার (৯ সেপে এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশব্যাপী গতকাল থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর পিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে বেড, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমান রোগীর হার অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত বেডও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য বেড পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য- আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গুর পিক সময়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না এবং হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত বেড রাখতে হবে।
এদিকে আজ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্কাউট, বিএনসিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার, বিডিক্লিন এবং দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, রোভারসহ স্বেচ্ছাসেবীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৩ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে ১৩৩ জনের প্রাণ কেড়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের ৯ দিনে ৩৬ জন, জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই সময়ে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসের ৯ দিনে ১১ হাজার ৯২ জন। আর জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং আগস্ট মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৩ হাজার ৫৫৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এত হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড নেই। একে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত- এই দুই মিলিয়ে হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৫ সালে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২ এবং ২০২২ সালে ৩১১ জন।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল চার সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম। ২০ এপ্রিল সারা দেশে ওই বয়সী শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা ২০ মে শেষ হয়।
টিকাদানের ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি এবং হাম নিয়ন্ত্রণে আসার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এ বছর ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজারের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। যদিও ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। সেই অনুসারে টিকার কাভারেজ ১০৯ শতাংশ।
ক্যাম্পেইনে দেশের শতভাগের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলে সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সরকারের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের মতে, হাম পরিস্থিতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন ছিল, তেমনটা হয়নি। বলা ভালো, গোড়াতেই ‘গলদ’ ছিল বলে দাবি ছিল বিশেষজ্ঞদের।
তা ধরা পড়ে জুনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে। হামের টিকার মতোই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেখানে শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখ। সে সময় পর্যন্ত দুই কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রায় প্রায় ৫৫ লাখের ব্যবধান ছিল।
গত ১৬ আগস্ট টিকাবিষয়ক আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটিতে (আইসিসি) দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাদ পড়া ১৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনো হামের সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ যেন অনেকটা ‘প্রাকৃতিক উপায়ের ওপর’ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকিও।
অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ টিকা কার্যক্রম চালালেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থেকে গেছে বিপুলসংখ্যক শিশু। এই বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকার বাইরে রেখে হামের মতো অতি ছোঁয়াচে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এখন তেমনটাই হয়েছে।
প্রকোপ কবে নাগাদ কমবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন মনে হচ্ছে নিয়তির হাতেই সব সঁপে দিয়েছি। ধীরে ধীরে শিশুরা আক্রান্ত হতে হতে যখন আর কোনো শিশু আক্রান্ত হওয়ার বাকি থাকবে না, তখন এই রোগের সংক্রমণ কমবে।
হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘আন্তরিকতার ঘাটতি’র কথা উল্লেখ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, হাম নিয়ে সেভাবে আর কথা হচ্ছে না। এদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। অথচ এ বিষয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই পরিস্থিতি জটিলের দিকে যাচ্ছে।
হাম নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান জানান, একটি কমিউনিটির অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ চলমান রোগের টিকা পেলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে ওঠে। হাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘হার্ড ইমিউনিটি’ এখনো গড়ে ওঠেনি। সরকারের টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ শিশু। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯।
গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১০০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।
চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত- এই দুই মিলিয়ে হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯০৪ জন। হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
