বেসরকারি চাকরিতে বেতন-কর্মঘণ্টায় নতুন নিয়ম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন ‘সার্ভিস রুলস’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সার্ভিস রুলসে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও পদোন্নতিসহ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও এতে রাখা হবে।
এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির সুযোগ, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সুনির্দিষ্ট বিধান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন সার্ভিস রুলস তৈরিতে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির কাজ এখনো চলমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, চেম্বার ও বেসরকারি খাতের সংগঠনের মতামত নেওয়ার পর খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হবে। এরপর তা সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মতে, শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালায় কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় থাকলেও বেসরকারি খাতের অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নতুন সার্ভিস রুলস হলে এসব বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে।
বেসরকারি খাতে কর্মরত ৬৬.৪ শতাংশ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আরও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত।
অর্থাৎ, জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট কর্মীর ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশই বেসরকারি খাতে কাজ করছেন। ফলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি, পদোন্নতি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সার্ভিস রুলসের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
