আজই পে-স্কেলের গেজেট জারি?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সন্ধ্যার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ না হলে গেজেট প্রকাশ কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়ার আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি কিছু আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। এসব কার্যক্রম শেষ হলে বৃহস্পতিবারই গেজেট জারি হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আজ জারি হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির কথা থাকলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে গেজেট নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
কার কত বেতন বাড়ছে
নতুন বেতন কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন জারির পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই থেকে এর সুবিধা পাবেন।
যেভাবে এলো নতুন পে-স্কেল
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের যাতায়াত ভাতায় পরিবর্তনের সুপারিশও ছিল।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়।
