‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা লেখা নয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।
তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে কারও বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো যা খুশি লেখা নয়। স্বাধীনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, সরকার স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে স্বাধীনতার কথা বলার সময় এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে স্বৈরাচারী আচরণের জন্ম নেয়। স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা লেখার সুযোগ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাত কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। অনেক সময় কারও বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হলেও সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না।
ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অপতথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ‘ফ্যাক্ট চেক’ কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি মোবাইল জার্নালিজম ও সিটিজেন জার্নালিজমেও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
সারাদিনে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য, তা নিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বিশেষ অনুষ্ঠান বা প্রতিবেদন করারও পরামর্শ দেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালেহ শিবলী বলেন, স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে প্রত্যেকের স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সীমারেখাও রয়েছে। সেই সীমারেখা সরকার বা ব্যক্তি নির্ধারণ করবেন না; এটি নির্ধারণ করবে আদালত।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সঞ্চালনা করেন। এ সময় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
