পে স্কেলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সামনে এলো বড় জটিলতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে পদোন্নতি পেলেই সব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট বেতন বাড়বে না। গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পরও মোট মাসিক প্রাপ্য কমে যেতে পারে। এমনকি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর তুলনায়ও মোট বেতন কম হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বিশ্লেষণে এ ধরনের অসংগতির বিষয়টি সামনে এসেছে। নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাড়া কর্মস্থল ও গ্রেডভেদে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের হিসাব অনুযায়ী, ১৫তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে ৭ হাজার ৯৮০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার, টিফিন ভাতা ৫০০ এবং মোবাইল ভাতা ১৫০ টাকা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৪৩০ টাকা।
অন্যদিকে ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা। ১৫তম গ্রেডের তুলনায় মূল বেতন ৯০০ টাকা কম হলেও বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫ শতাংশ হওয়ায় এ খাতে পাওয়া যাবে ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৪০৫ টাকা। অর্থাৎ ১৫তম গ্রেডের চেয়ে ১৬তম গ্রেডে মোট বেতন ৯৭৫ টাকা বেশি।
একইভাবে ১৭তম গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ টাকা। ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাওয়া যাবে ৯ হাজার ৬৩০ টাকা। চিকিৎসা, টিফিন ও মোবাইল ভাতা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অর্থাৎ ১৫তম গ্রেডের তুলনায় মূল বেতন ১ হাজার ৪০০ টাকা কম হলেও মোট বেতন ২৫০ টাকা বেশি।
আবার ১৪তম গ্রেডে মূল বেতন ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন গেজেটের গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনের তালিকাতেও ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ২৩ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশে পার্থক্যের কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার হার কমে যাওয়ায় মোট আর্থিক সুবিধায় কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি নাও হতে পারে।
এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমে বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে আগের বাড়ি ভাড়া ভাতার ব্যবস্থার তুলনাতেও পার্থক্য রয়েছে। নতুন গেজেট অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন-ভাতা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। গেজেটটি ২০২৬ সালের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস++-এ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিডিও তা যাচাই করবেন। এরপর হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে।
ফলে নতুন পে স্কেলে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার পরিবর্তনের কারণে মোট আর্থিক সুবিধায় কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
