দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা : আইজিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচনা করার সুযোগ নেই; অপরাধীর পরিচয় একটাই—সে অপরাধী। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন আইজিপি।
সভায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার কথা জানান আইজিপি। মাদক কারবার ও এর বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আইজিপি। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনাও দেন সায়েদুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অতিরিক্ত আইজি। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মুলতবি মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় বিভিন্ন মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
