৪৫৯২ জনবল নিয়ে যাত্রা সাইবার পুলিশ ইউনিটের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে নতুন এই ইউনিট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে জনবল নেওয়ার পাশাপাশি শুরুতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দল নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের শিগগিরই বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।
তিনি জানান, নতুন ইউনিটের প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগ ও পুলিশ সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানাগুলোতেও ইউনিটের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল থাকবে।
সাইবার পুলিশ ইউনিটে আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবারসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে বলে জানান তিনি। তার মতে, আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা ও ইউনিট বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করত। এতে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতো। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
নতুন ইউনিটে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পদ থাকবে।
এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে। তাদের বেতন-ভাতার কাঠামো নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুলিশ বাহিনীর মধ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষণে আগ্রহী সদস্যদেরও নতুন ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের মধ্যে থাকা সাইবার বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে। আইন সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন আইনে সাইবার অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি ঠেকানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা খুবই সেনসিটিভ আইন, সেজন্য আমরা দীর্ঘ সময় নিচ্ছি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সেই বিলটা আমরা নিয়ে আসব।’
