এবারের দুর্গাপূজা ‘অগ্নিপরীক্ষা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
ডিএমপি সদরদপ্তরে মঙ্গলবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় কথা বলেন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
এবারের দুর্গোৎসবকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিএমপি সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই উৎসব আমাদের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা।”
ঢাকার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে ডিএমপি ‘সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে’ দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি। পরে ডিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুর্গাপূজা চলাকালে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
সভায় ডিএমপি কমিশনার জানান, পূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট (SWAT), ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (CRT), কুইক রেসপন্স টিম (QRT), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া বিভাগের নতুন এআইজি কামারুম মুনিরা
সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নিজেদের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী—সবার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে।” জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধও জানান তিনি।
এবারের দুর্গোৎসবে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হবে।
ডিএমপি সদরদপ্তরের এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
