অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পিএম
ফাইল ছবি
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কিনে অন্যের কাছে বেশি দামে বিক্রি ঠেকানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সফটওয়্যারে নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট বিক্রির সময় একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করায় চাপ তৈরি হয়। ঈদের সময় প্রতিদিন ৩২ হাজার টিকিটের বিপরীতে ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেন। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারেন। তবে একাধিক ব্যক্তি মিলে অনেক টিকিট কিনে পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করার প্রবণতা দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে আগে প্রবেশকারীরা আগে কেনার সুযোগ পান। এ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে পুরো ব্যবস্থাটি এখনো ত্রুটিমুক্ত নয়। পর্যায়ক্রমে এসব ত্রুটি দূর করার চেষ্টা চলছে।
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত। নতুন উদ্যোগের ফলে কক্সবাজার পর্যন্ত তিন জোড়া ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা সাত জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে।
রেল যোগাযোগের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়েকে মানসম্মতভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ আসছে, পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ট্রেন চালুর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, স্টেশনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের যত্রতত্র চলাচল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধেও জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়ে যাত্রীদের আহত করা অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
