মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দ্বীপ, কে এই বন্ধু?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। দুজনে মিলে তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামত করান, পরে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর রাজধানীর উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় আলাদা হয়ে যান তাঁরা।
দ্বীপের দাবি, বাসায় ফিরে তিনি তাহসিফকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পান। পরদিন সকালেও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, ঘটনার দিন তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানান দ্বীপ।
দ্বীপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। দ্বীপ জানান, তাহসিফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রায় ছয় বছরের। তাহসিফ ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বড় ভাই। বয়সে বড় হওয়ায় তাঁকে ‘বড় ভাই’ বলেই সম্বোধন করতেন তিনি।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি চালু না হওয়ায় মোটরসাইকেল সম্পর্কে ধারণা থাকা দ্বীপের পরামর্শ চান তিনি। পরে দ্বীপ তাহসিফের বাসায় যান। দুজনে প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে মোটরসাইকেলটি চালু করেন। এরপর সেটি একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত ও তেল পরিবর্তন করান।
কাজ শেষে দ্বীপকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান তাহসিফ। পরে উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাবার খান তাঁরা।
দ্বীপ জানান, রাতের খাবার শেষে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে করে রওনা হন। উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় পৌঁছে তিনি একদিকে চলে যান, আর তাহসিফ অন্যদিকে যান। রাত ১২টার দিকে তাঁদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানান দ্বীপ।
তাঁর দাবি, সেদিন তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেননি। খাবার খাওয়ার সময় তাহসিফের এক বন্ধু ফোন করেছিলেন বলে মনে পড়ে তাঁর। তবে কথাবার্তা স্বাভাবিক ছিল।
দ্বীপ জানান, বাসায় পৌঁছে তাহসিফকে ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ পান। রেস্তোরাঁয় তাহসিফ পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে মুঠোফোন চার্জ দিচ্ছিলেন। এ কারণে চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করেছিলেন দ্বীপ। পরদিন সকালেও ফোন করে যোগাযোগ করতে পারেননি।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করেন কি না, জানতে চাইলে দ্বীপ বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করার মতো অবকাশ তাঁর নেই। পরিচয়ের পর থেকে তাহসিফের সঙ্গে এমন কোনো কথোপকথন হয়নি, যা থেকে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করতে পারতেন।
দ্বীপ বলেন, ‘বাকি ১০ জন যেমন রহস্যের মধ্যে আছে, আমিও একদম একই রহস্যের মধ্যে আছি।’
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে সম্প্রতি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই ব্যবসার কাজ দেখাশোনা করতেন দ্বীপ।
এ বিষয়ে দ্বীপও তাহসিফের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ব্যবসা নিয়ে পরিচিতদের মধ্যে ব্যক্তিগত মনোমালিন্য হতে পারে। তবে বিষয়টি তেমন বড় কিছু ছিল না।
তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দ্বীপের পরিচয় ছিল। তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, একবার দ্বীপের বাবা-মা তাঁদের বাসায় গিয়েছিলেন।
দ্বীপ জানান, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তাঁকে বলতেন, তিনি না থাকলে যেন তাঁর ছোট ভাইকে দেখে রাখেন। তবে কেন তাহসিফ এমন কথা বলতেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি দ্বীপ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে তাহসিফের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে দ্বীপ বলেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। এ নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি।
দ্বীপ সম্প্রতি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে নেওয়ার সময় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান। এরপর থেকে পরিবারের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে আর বাইরে বের হননি বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্বীপের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাতে খাবার শেষে তাহসিফের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। তবে ওই রাতে তাহসিফের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর নিখোঁজ মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্বীপের বক্তব্যে ঘটনার আগের কয়েক ঘণ্টার বিবরণ উঠে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত তথ্য মেলেনি।
