নতুন পে-স্কেলে ইনক্রিমেন্ট পাবেন না যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাবেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের সুবিধা থাকবে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আগে অবসরে যাওয়ার সময় যে গ্রেডে ছিলেন, সেই গ্রেড অনুযায়ী তাদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত বেতন থেকে মোট পেনশন বা বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন সমন্বয়ের বিধানও রাখা হয়েছে।
এসব নিয়ম চূড়ান্ত করে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতনকাঠামো-২০১৫ অনুসারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে।
এ জন্য বিদ্যমান চুক্তি সংশোধন করতে হবে। সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে উল্লেখ থাকা প্রযোজ্য ভাতা পাওয়া যাবে। তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা মিলবে না।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে বর্তমানে কতজন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রয়েছেন, তার হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ‘স্ট্যাটিস্টিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মিলিয়ে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত ছিলেন।
গত ১ জুলাইয়ের পর যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাদের অবসরের ঠিক আগে জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন পাওয়ার কথা ছিল, নতুন কাঠামোয় সেই গ্রেড ও ধাপ অনুসারে বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রেও বিদ্যমান চুক্তি সংশোধন করতে হবে।
চুক্তিতে নির্ধারিত যোগদানের তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিধি অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন ও চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ভাতা পাবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন কার্যকর হতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে পেনশন-সংক্রান্ত বিধানেও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নির্ধারিত বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট পেনশন বাদ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এককালীন অর্থ গ্রহণ বা পেনশন সমর্পণের আগের পরিমাণ এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদে নতুন করে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, আনুতোষিক কিংবা পেনশন বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, যারা সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেননি, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত যোগ্যতা ও গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। এরপর সেই অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন বিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে। বেতন-ভাতা বিষয়ে সরকার ভবিষ্যতে নতুন কোনো আদেশ জারি করলে সেটিও প্রযোজ্য হবে।
