পুলিশের ধাওয়ায় তাহসিফ ‘দৌড়’ দিয়েছেন, ‘হাস্যকর’ বলছেন বাবা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দিয়েছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের তরফে বলা হলেও সেটিকে ‘হাস্যকর’ মনে করছে নিহতের পরিবার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, “একজন ডিফেন্স অফিসার পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দেবে, এটা হাস্যকর বক্তব্য না? এরকম হওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
তুরাগ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ ও ব্যবসায়ীক অংশীদার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আটক করে পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই।
পরের দিন সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত নম্বরবিহীন সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের কথা জানায় পিবিআই। যেখান থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়, সেখান থেকে তুরাগ নদের দুরত্ব ৫০ গজের মতো।
এরপর শুক্রবার দুপুরে দীপকে নিয়ে ওই এলাকায় যান পিবিআই’র কর্মকর্তারা। দীপের বরাত দিয়ে পিবিআই’র কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যরাতে তাহসিফ ও দীপ যখন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন তখন ইউনিফরমে থাকা পুলিশ ধাওয়া দিলে দীপ বিআইডব্লিটিএর একটি সীমানা পিলারের পেছণে লুকান। আর তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, “দীপ বলছে, তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে। কে ধাওয়া দিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
মাজার বস্তি এলাকাটা মাদকের ‘স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে তারা কীজন্য গিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পুলিশ।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি বলেছেন, “তারা মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। দীপ অনেক কিছু বলেছেন, আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করছি।”
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করবেন কি না জানতে চাইলে অনীহার কথা শোনান এনায়েতুল করিম।
তিনি বলেন, “মামলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব। মামলার কেন প্রয়োজন হবে? সরকার নিশ্চয়ই এ বিষয়ে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে এবং অত্যন্ত আন্তরিক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মামলা মানেই আমাদের দেশে একটা ঝামেলা, কোর্টে দৌড়াদৌড়ি। কে চায় এরকম ঝামেলার মধ্যে পড়তে?
“যেখানে আমাদের চমৎকার সরকার রয়ে গেছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছি, তারা অত্যন্ত দায়িত্ববান, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।”
তাহসিফের বাবা বলেন, “আমরা চাই একজন সুনাগরিক হিসেবে… সে একজন পাইলট, দেশের জন্য অ্যাসেট ছিল। সরকার নিশ্চই তার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক হবে, অত্যন্ত দায়িত্বশীল হবে এ বিষয়ে তথ্য উদঘাটন করতে। এবং এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক পদক্ষেপ নিবে বলে আমি মনে করি।”
দীপের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, “তাহসিফ একটা চাকরি করতো, পাশাপাশি সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের একটি ব্যবসাও ছিল তার। দীপ সেই ব্যবসা দেখাশোনা করতো, পাশাপাশি পড়াশোনা করত।
“অনেক দিন ধরে দীপের সঙ্গে সম্পর্ক। মাঝেমধ্যেই আমাদের বাসায় আসতো। তার ছোটভাই ও বাবা-মাও একবার এসছে আমাদের বাসায়।”
তাহসিফের বাবা বলেন, “রাতে লাস্ট মেসেজ দিয়েছিল ওর মাকে, যে এখনি ফিরছে। এর পরে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
“তার মা সারারাত বসে ছিল আর কিছুক্ষণ পর পর তাকে মোবাইলে ধরার চেষ্টা করছিল। আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি যে ছেলে আসেনি। তখন আমিও চেষ্টা করেছি। ফোন বন্ধ পেয়েছি। তারপর দুপুরে আমি গিয়েছি তুরাগ থানায় খবর নিতে। সন্ধ্যার একটু আগে উত্তরখান থানা থেকে আমার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আমার ছেলের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আমাকে জানালো যে তার ডেডবডি পাওয়া গেছে রাজাবাড়ী ঘাটে।”
তাহসিফের বাবা বলেন, “ওই অঞ্চলে সে কখনো গিয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না। সাধারণত সে বের হলে বন্ধুদের সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় যেত বলে আমি জানি।”
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ স্থানটি উত্তরখান থানায় পড়লেও উদ্ধার হওয়া বাইকের ঘটনাস্থল টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুই স্থানেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।
সূত্র: বিডিনিউজ।
