একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
ফাইল ছবি
বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে। থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যদের এ তালিকায় রাখা হয়েছে।
পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান
পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা নিলে তার প্রভাব পুরো বাহিনীর ওপর পড়ে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপরাধীরা অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নিতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। তবে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পরও কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শুধু ব্যক্তিগত অসততার বিষয় থাকে না; বরং বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তাঁদের মতে, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বদলি বা ক্লোজ করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এতে বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিআইজি
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
ডিআইজি আরও বলেন, আইজিপির নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অননৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড করার এ পদক্ষেপকে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
