×

জাতীয়

যেসব কারণে নতুন কাঠামোতে বেতন পায়নি লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

যেসব কারণে নতুন কাঠামোতে বেতন পায়নি লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশ। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ জমা হতে শুরু করেছে।

তবে পে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায় এক লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁরাও বর্ধিত বেতন পেতে পারেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক বর্ধিত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা। এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অধিকাংশের হিসাবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী অর্থ জমা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরাই এ দফায় বর্ধিত বেতন পেয়েছেন। বাকিদের পে ফিক্সেশন শেষ না হওয়ায় অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, রোববার সকাল ১০টার পর থেকে তাঁদের মুঠোফোনে বেতন জমার বার্তা আসতে শুরু করে। অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও পেয়েছেন তাঁরা। যাঁদের পে ফিক্সেশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাঁদের আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বেতন পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পে ফিক্সেশনের বাইরেও যেসব জটিলতা

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে শুধু পে ফিক্সেশন নয়, আরও কিছু অসংগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ধারাবাহিকতা এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীরা।

অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব অসংগতি দূর করার দাবি জানিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের ধারাবাহিকতায় অসংগতি তৈরি হয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে কেউ কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ছাড়া পদোন্নতির পরও কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যার এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তবে অসংগতি দূর করতে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যেভাবে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতনকাঠামো

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে একাদশ গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং দ্বাদশ থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার ধাপে ধাপে বর্ধিত বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতনকাঠামোর শতভাগ সুবিধা কার্যকর করার কথা রয়েছে।

তবে মূল বেতন বাড়লেও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে নতুন হার এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রচলিত হারেই অন্যান্য ভাতা পাবেন। সংশোধিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল। ওই সময় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হলেও পে ফিক্সেশন সম্পন্ন না হওয়া এবং বিভিন্ন অসংগতির কারণে এখনো বর্ধিত বেতন পাননি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে অপেক্ষমাণ কর্মচারীরাও দ্রুত নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা, আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা, আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

জামায়াত জোটে কী হচ্ছে, এনসিপিসহ শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

জামায়াত জোটে কী হচ্ছে, এনসিপিসহ শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

যেসব কারণে নতুন কাঠামোতে বেতন পায়নি লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

যেসব কারণে নতুন কাঠামোতে বেতন পায়নি লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App