×

জাতীয়

‘হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

‘হেরোইন খুঁজতে টঙ্গীর মাঠে যান তাহসিফ’

ছবি : সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার রাতে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ, উত্তরার একটি বারে মদ্যপান এবং পরে টঙ্গীতে গিয়ে হেরোইন খোঁজার তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। চার দিনের রিমান্ডে থাকা দীপের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাহসিফ কীভাবে তুরাগ নদে পড়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৮ মিনিটে তাহসিফ, তার প্রেমিকা দিশা এবং তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নেস্ট বারে যান। কয়েক দিন আগে দিশা অন্য এক যুবকের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং ওই যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন বলে তাহসিফ জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ থাকায় সেদিন দিশাকে নিয়ে বারে যান তিনি।

বারে প্রবেশের পর তাহসিফ কর্তৃপক্ষকে সাউন্ড সিস্টেমে বিষণ্ন সংগীত বাজানোর অনুরোধ করেন। পরে ওয়েটাররা তাদের মদ পরিবেশন করেন। রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ, দিশা ও দীপ মদ পান করেন। এ সময় দিশার আগের ঘটনা নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাহসিফ বলেন, ‘তুমি তো ইয়াবা খেয়েছ, আমি এর চেয়েও বড় কিছু খাব। আমি হেরোইন খাব।’

রাত ১২টার দিকে বার থেকে বেরিয়ে তাহসিফ নিজের মোটরসাইকেলে দিশাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় পৌঁছে দেন। দীপও নিজের মোটরসাইকেলে সেখানে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তাহসিফ ও দিশা দুজনই ওই সেক্টরে থাকতেন। গত এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তাহসিফের মুঠোফোন বিশ্লেষণ করে তাদের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বার ও রেস্তোরাঁয় যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে।

দিশাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর তাহসিফ ও দীপ নিজ নিজ মোটরসাইকেলে টঙ্গী বাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠের দিকে রওনা হন। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাহসিফ নিজেই নিয়েছিলেন।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের পাশের বস্তির কাছে মোটরসাইকেল রেখে তারা মাঠের দিকে যান। তখন সেখানে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় মাদকসেবী ও মাদক কারবারি। মাঠে গিয়ে তাহসিফ উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘কার কার কাছে হেরোইন আছে, নিয়ে আসো। যত টাকা লাগে আমি দেব।’ পরে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে মাদক কিনে সেবন করেন তিনি।

দীপের দাবি, বারে মদ্যপানের পর মাঠে গিয়ে মাদক সেবন করায় তাহসিফ নিজের ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ আরও জানান, তাহসিফ যখন মাঠে মাদক সেবন করছিলেন, তখন সেখানে পুলিশের একটি টহল দল আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মাদক কারবারিরা পালিয়ে যান। দীপও দৌড়ে নদীর পাড়ের দিকে চলে যান এবং ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তাহসিফের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি।

দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই থেকে তিন মিনিট পর দুই পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ধরেন। তারা তার নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ক্যাপ্টেন তাহসিফের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে এত রাতে সেখানে থাকার কারণ জানতে চান এবং বাসায় ফিরে যেতে বলেন। তবে তিনি পুলিশের পেছনে না গিয়ে বস্তির একটি সরু রাস্তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পুলিশের কাছে কেন নিজেকে ক্যাপ্টেন তাহসিফের বন্ধু পরিচয় দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দীপ জানান, বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই এই পরিচয় ব্যবহার করেন। এমনকি ট্রাফিক পুলিশ আটকালে নিজেকে বাহিনীর ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দেন। সেদিনও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একই পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

দীপ আরও বলেন, বস্তির ভেতরে ঢুকে রাস্তা চিনতে না পেরে এক মাদকসেবীর সহায়তায় মূল সড়কে আসেন। পরে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন। কিন্তু প্রতিবারই ফোন বন্ধ পান। তাহসিফ মাদক সেবন করতে এসেছেন, তাই সেবন না করে চলে যাবেন না—এমন ধারণা থেকে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো কোথাও বসে মাদক নিচ্ছেন। এ ছাড়া ওই রাতে তাহসিফ তার কাছ থেকে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়েছিলেন। তাই ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে বলেও ধারণা করেছিলেন তিনি।

দীপের দাবি, তাহসিফ বাহিনীতে চাকরি করেছেন এবং তিনি সবকিছু সামলে নিতে পারবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে তাহসিফকে পানিতে পড়তে দেখেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তে দুর্ঘটনার ধারণা, তবে নিশ্চিত নয়

দীপের বক্তব্য তদন্তকারীরা পুরোপুরি বিশ্বাস করছেন কি না এবং বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নে তদন্তসংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাহসিফের মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নেস্ট বারেও বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি দুজনের মুঠোফোন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না; বরং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হতে পারে। পুলিশের উপস্থিতিতে সবাই দৌড়ে পালানোর সময় তাহসিফও সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে কেউ তাকে পানিতে পড়তে দেখেননি। তাই কীভাবে এ ধারণা করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, দীপের বর্ণনা অনুযায়ী, মাদক গ্রহণের কারণে তাহসিফের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মাদক সেবনের অতীতের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঘটনার রাতে তাহসিফের মায়ের কাছে পাঠানো ভয়েস মেসেজ কে পাঠিয়েছিলেন, সে সময় দীপ সেখানে ছিলেন কি না এবং প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় দীপের বক্তব্য কতটা নির্ভরযোগ্য—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তাহসিফ মাদক সেবন করেছিলেন কি না কিংবা তার শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, রাসায়নিক পরীক্ষায় সেসব বিষয়ও জানা যেতে পারে। দীপ ও দিশাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে তাহসিফ ও দীপের টঙ্গী বাজার বস্তিসংলগ্ন মাঠে যাওয়ার একটি ভিডিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তাহসিফ বস্তির সরু রাস্তা দিয়ে মাঠের দিকে যাচ্ছেন। তার পেছনে হাতে হেলমেট নিয়ে হাঁটছেন দীপ। এ সময় তাহসিফকে দীপের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘দীপ, ডোন্ট টক টু মাচ, লেটস ওয়াক।’

ফরেনসিক পরীক্ষার অপেক্ষা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের সময় তার পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সাধারণত তার সাঁতার জানার কথা। তাই এমন কোনো পরিস্থিতিতে তিনি পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে সাঁতার কাটার সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল না—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তাহসিফ মাদক বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা জানতে রক্ত, পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তদন্তকারীদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ—বারে মদ্যপান, প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ, টঙ্গীর মাঠে হেরোইন খুঁজতে যাওয়া, মাদক সেবন, পুলিশের উপস্থিতিতে দীপের পালিয়ে যাওয়া এবং এরপর তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়গুলো। তবে তিনি কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, সেটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ

গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ডাকে উত্তরার বাসা থেকে বের হন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)। ওই রাতে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে আর ফেরেননি। রাত ১টার দিকে তার মুঠোফোন থেকে মায়ের মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিসি আসতেছি’।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর আসে, তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ২৯ অক্টোবর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর রহস্য তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা।

প্রথমদিকে দীপ দাবি করেছিলেন, একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। পরে টঙ্গীর মাদক স্পটে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এদিকে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় শুরুতে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করলেও ৩০ অক্টোবর দিবাগত রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে তিনি ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় নৌপুলিশ। ৩১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

তাহসিফের বাবা সাংবাদিকদের জানান, দীপ প্রথমে তাকে বলেছিলেন, ছেলেকে বাসার কম্পাউন্ডে নামিয়ে দিয়েছেন। পরে পিবিআইয়ের কাছে টঙ্গীতে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। এতে তার মনে সন্দেহ তৈরি হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার রাতে নেস্ট বারে যাওয়া তরুণী জারিকা তাসনিম দিশাকেও কাফরুলের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নৌপুলিশ। তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও তাহসিফের মুঠোফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দিশার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং ঘটনার রাতে একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে দীপ ও দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বিমান মহড়া শুরু

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বিমান মহড়া শুরু

বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাঙালির প্রিয় শুঁটকিতেও মিলল ৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক

অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা

অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা

পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App