দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ
এখনও সৌদির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। তবে চিঠি পাঠানোর তিন সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো জবাব পায়নি ঢাকা। সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশন দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সেখান থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “না, কাজ চলছে। সময় লাগবে, সময় লাগছে। তো আমরা আশা করছি, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা দ্রুত কিছু খবর পাব।”
মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছিল ঢাকা।
সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত ১৫ অক্টোবর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ওই চিঠি পাঠানোর তিন দিন পর ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে একই চিঠি পুনরায় হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার পর্যন্ত এসব চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিসহ বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ। গঙ্গা চুক্তি নবায়ন না হলে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গঙ্গা চুক্তি তো ছিলই, এটা আবার রিনিউ হবে। যা ছিল, সেটাই চলমান থাকবে, সেটার জন্যই তো এত আলোচনা। সেটা আমরা আশা করি। বাংলাদেশের জন্য যেটা সঠিক, বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেটা সঠিক, সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত থাকবে। আমরা আশা করি, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি এতটুকু বলতে পারি যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তো বিশাল। সেই বাণিজ্য ঘাটতি আমরা কমাতে চাই। আজকে গঙ্গার চুক্তির জন্যও কিন্তু বসতে হবে, আলোচনা করতে হবে। আমি কিন্তু প্রায় বলি, আপনার প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে হলেও সেই ঝগড়ার জন্য ন্যূনতম একটা সম্পর্ক লাগে। আমি যে বন্ধ করব, সেটা বন্ধ করার জন্যও আমার বলা লাগবে, বলার জন্য বসতে হবে। সুতরাং ব্যাপারটা সেই রকম।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলো আলোচনা, কথাবার্তার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমার ন্যায্য পাওনাটা যদি আদায় করতে হয়, তাহলে সেটার জন্য আমাকে লড়াই করতে হবে। আমাদের যদি লড়াই করতে হয়, সেটার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটাই স্বাভাবিক এবং সেটাই কূটনীতি।”
ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে, জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, গঙ্গা চুক্তির দরকষাকষির জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কমিটির প্রধান। কমিটিতে পানিসম্পদমন্ত্রীও রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আগামী দিনের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সেটি আবার নবায়ন হবে বলে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে এবং আশা রাখে। এ ক্ষেত্রে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
