শিবিরের রাজনীতি ছাড়ার কারণ জানালেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, একসময় তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়ায় তিনি সেই সংগঠন ছেড়ে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি ছাত্রশিবিরে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে নিজের রাজনৈতিক চিন্তা ও আদর্শে পরিবর্তন আসায় তিনি সংগঠনটি থেকে সরে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, আদর্শগত পরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন এবং বর্তমানে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার দাবি, চাইলে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতেই থেকে ধাপে ধাপে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেতে পারতেন। কিন্তু নিজের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিন্ন পথ অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আদর্শিক রাজনীতি ও বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দর্শন তাত্ত্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে তা সীমাবদ্ধতায় পড়ে।
বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সংস্কারভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। তবে বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে একমত না হওয়ায় তারা এমন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করছেন, যারা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে ওঠা 'মোরাল টারপিচিউড' বা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বলে উল্লেখ করে নাসিরুদ্দীন বলেন, নীতিগতভাবে কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অনাস্থা ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণেই বর্তমান অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংলাপ জরুরি এবং সহিংসতার মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
