শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল চুয়েট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকালে তারা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। এছাড়া নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে শুক্রবার রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পালা করে পাহারা দিচ্ছেন তারা।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তাদের গ্রাফিতি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা হতাশ বলেও জানান তিনি।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীরাও দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তারা গ্রাফিতি আঁকছেন। তার দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভালো কাজ করছিলেন এবং তাকে কাজ করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা দিয়ে পাহারা দেন তারা।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করে তারা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বৃহস্পতিবার অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই দিন রাতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে চান না বলে জানান।
এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। আন্দোলনের কারণে বর্তমানে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
