আ.লীগে একক প্রার্থী, বিএনপিতে একাধিক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০১৮, ০৬:২৮ পিএম
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর নিকটতম গাজীপুর-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনী আসনের পুরো এলাকাই রয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে। এরই মধ্যে কেউ কেউ পোস্টার, ব্যানার সাঁটিয়ে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিতে শুরু করেছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেকটাই চ‚ড়ান্ত। তিনি হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে মেয়র মান্নানের উপরই মূলত নির্ভর করছে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন। মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা নানা ইস্যুতেই ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছাকাছি। বর্তমান এমপি রাসেলের নেতৃত্বে এলাকায় চলেছে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাদের সমর্থন আদায়ে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন। মনোনয়ন পেতে এলাকায় দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি এসব প্রার্থী দলের হাইকমান্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন।
আওয়ামী লীগ তাদের আসন ধরে রাখতে চায় আর ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি চায় তাদের হারানো আসন ফিরে পেতে। দলীয় কোন্দলের কারণে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হন এখানে। এরপর আর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপির পরিবারের কাছ থেকে বিএনপি এ আসনটি ছিনিয়ে নিতে পারেনি। আহসান উল্লাহ মাস্টার ২০০৪ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার পর তার ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জাহিদ আহসান রাসেল বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবারো মনোনয়ন চাইবেন এবং বলতে গেলে তার প্রার্থিতা অনেকটাই চ‚ড়ান্ত। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার। এ ছাড়া গত নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন এমন আরো কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা এবারো মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।
এ ছাড়া বাসদের আব্দুল কাইয়ুম, সিপিবির মো. জিয়াউল কবির নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সাত্তার মিয়া এবার নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে সর্বোচ্চ ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে আসন ভাগ হলে তিনি শ্রীপুর উপজেলাসহ গাজীপুর সদরের আংশিক নিয়ে গঠিত বর্তমান গাজীপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট রহমত আলী এমপির কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেন হাসান উদ্দিন সরকার এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন জাহিদ আহসান রাসেল। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন রাসেল।
মূলত, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এ আসনে ভোটের ব্যবধানও হয় বিপুল। বাবা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার কারণে ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে রাসেলের পক্ষে আবেগের ভোট বেড়ে যায় প্রায় অর্ধলক্ষ। এর পরের সংসদ নির্বাচনেও জাহিদ আহসান রাসেল চারদলীয় জোট প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন জাহিদ আহসান রাসেল। এবারো এ আসনে রাসেলের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। এখানে আওয়ামী লীগের আরো দুয়েকজন নেতা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার মতো থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়তো শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ও তার পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতেই ছাড় দেয়া হবে জাহিদ আহসান রাসেলকে।
বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে নেতাদের মধ্যে সমন্বয় করে প্রার্থী বাছাই করা হলে জেলা ও মহানগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে তুমুল নির্বাচনী লড়াই হবে বলে নৌকা ও ধানের শীষের ভোটারদের ধারণা।
