ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন সমঝোতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণ রেখে বাকি ২৫০ আসনে আসন সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল। এই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইডিইবি) ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইসলামী আন্দোলনকে এই সমঝোতার আওতায় রাখতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ১০ দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। তিনি ইতোমধ্যে চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন জামায়াতসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে—এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরো পড়ুন : আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি সাংবাদিকদের জানান, রাত ৮টায় ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। তারা এই সমঝোতায় না এলে পরবর্তী সময়ে বাকি আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
দুপুরে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব মামুনুল হকের ওপর দেওয়া হয়েছে এবং আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
বৈঠক শেষে মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। বিস্তারিত রাতের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং জনগণেরও এ নিয়ে প্রত্যাশা আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মতভিন্নতা থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম জানান, ৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী থাকবে, কোনো একক দলীয় প্রার্থী নয়।
আজকের বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা দেরিতে জানতে পেরেছেন, তাই উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে এবং সমঝোতার দরজা খোলা রয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও দুই পক্ষই এখনো আলাদা জোট গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় এখনো আসেনি। বহুপক্ষীয় আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে জানানো হবে।
