এনডিটিভিকে সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির
ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে জামায়াত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সেইসঙ্গে বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান এবং এখানে সংখ্যালঘু বলে কোনো কিছু নেই। ক্ষমতায় গেলে ভারতে সফরের ব্যাপারে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে জামায়াতের অবস্থান কি? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার।
শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৬ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম বড় দল জামায়াত জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নির্বাচনকে ঘিরে পুরো বাংলাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এবারের ভোটে জামায়াতের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অনেকেই। তবে এই দলটির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে এনডিটিভিকে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান বলে আমরা মনে করি, প্রত্যেকেই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমরা কখনও শুধু ধর্মবিশ্বাসজনিত কারণে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু ধারণাকে প্রশ্রয় দিই না।
ভারতে সফরের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভারতে সফরের ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিধা বা বাধা নেই। নির্বাচন শেষ হোক, তারপর আমি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোর থেকেই কেন্দ্রে আসতে থাকেন ভোটাররা। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট দেবেন ভোটাররা।
দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে।
এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন।
