বিচারের দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের
এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও পুলিশি বাধার নিন্দা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতাদের পুলিশি বাধা ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ২৯ জুলাই হবিগঞ্জে ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারির অজুহাতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপিসহ এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটকে দেয় পুলিশ।
আরও পড়ুন : সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার শামিল। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলা ও বাধাদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কোনো ব্যক্তি বা দলের ওপর হামলার স্থান গণতন্ত্রে নেই। কারও বক্তব্য আক্রমণাত্মক মনে হলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া উচিত। সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখানো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। হবিগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এনসিপির নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ১৪৪ ধারা জারি করে বাধা দেওয়া নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার স্বার্থে ভবিষ্যতে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশে অতীতের মতো দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নাগরিকদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
