সরকারি তোলারাম কলেজ
বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাসহ অন্তত ৫ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর বারোটার দিকে কলেজের অডিটোরিয়ামে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে শহরের ব্যস্ততম চাষাঢ়া, কলেজ রোড ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কলেজের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জের ধরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, বাঁশ ও লোহার পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের কারণে এলাকাটিতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
আরও পড়ুন: গৃহবধূর কামড়ে আঙুল হারাল চোর, তবুও নিয়ে পালাল মোবাইল
সংঘর্ষে তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ এবং মহানগর শিবিরের সভাপতি অমিত হাসান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত শিবির নেতারা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি অমিত হাসান অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলের পাঁয়তারা থেকেই তারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে ছাত্রদলের সদস্য তুহিন আহমেদ ও রবিন আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া শিবিরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানে এসে উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দেয় এবং ঝামেলা তৈরি করে। আমরা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের কথা বললে তারা উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা ও ডিবি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষকে কলেজ রোড এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্ত সাপেক্ষে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুলিশ শিবিরকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা হাতে শহরের জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় মিছিল ও মহড়া দিতে দেখা গেছে।
