তারা ডিসেম্বরে এলে রাজপথেই দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচারণার প্রসঙ্গে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, "তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুন, ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।"
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম, খুন, নির্যাতন, অর্থ পাচারসহ নানা গুরুতর অভিযোগ থাকলেও দলটির মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তিনি বলেন, "আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে চাই না। এত অন্যায়-অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, নির্যাতনের পরও তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই।"
নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। এখন ৮২ বছর বয়সেও বাংলাদেশের প্রয়োজনে আবারও লড়াই করতে প্রস্তুত।"
জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহযোগিতা করা হবে এবং অন্তত তাদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।
আরও পড়ুন: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে জীবন্ত রাখবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: ড. ইউনূস
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা। তার ভাষায়, সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংকীর্ণ স্বার্থ বা বিভাজন যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডকুমেন্টারি ঘিরে বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় উপস্থিত কিছু মানুষের মধ্যে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ভুল মানুষেরই হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে সেই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তার মতে, এরপর বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি শান্ত রাখা উচিত ছিল।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে "ভুয়া, ভুয়া" স্লোগান দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি দেশের ভাবমূর্তির জন্য সুখকর নয়। এ ধরনের ঘটনার কারণে তিনি দুঃখ, লজ্জা ও হতাশা প্রকাশ করেন।
অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ করা প্রয়োজন। তার মন্তব্য, অনেক সময় অনুসারীরা নিজেদের নেতার চেয়েও বড় প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন আচরণ দেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
