নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে জীবন্ত রাখবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: ড. ইউনূস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, ইতিহাস ও চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। তার মতে, এটি শুধু স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের অনুপ্রেরণারও কেন্দ্র হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, মানুষ যদি কখনো আদর্শ বা লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে এই জাদুঘরে এসে আবার নতুন করে পথের সন্ধান পাবে। তিনি বলেন, এখানকার সংরক্ষিত ইতিহাস, আত্মত্যাগের গল্প ও স্মৃতিচিহ্ন মানুষকে নিজেদের দায়িত্ব ও লক্ষ্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
আরও পড়ুন: তারা ডিসেম্বরে এলে রাজপথেই দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো- গণঅভ্যুত্থান শেষ হওয়ার বহু বছর পর নয়, বরং আন্দোলন চলাকালীন সময়েই দলিল, আলোকচিত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী, বিভিন্ন নিদর্শন এবং মানুষের অনুভূতির সাক্ষ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম প্রকৃত ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ জানতে পারবে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রসঙ্গ তুলে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, অনেকেই কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পরিবারের উদ্দেশে চিঠি লিখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কেন তারা রাজপথে নেমেছিলেন এবং কী স্বপ্ন তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, সেই অনুভূতিগুলোও জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছে। তার মতে, এসব দলিল নতুন প্রজন্মকে দেশ গঠনের আদর্শ ও স্বপ্নের সঙ্গে পরিচিত করবে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণরা যেন সেই সাহস, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারে, সেটিই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীসহ দেশের সব নাগরিককে অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এটি শুধু দেখার জায়গা নয়; বরং নিজের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবার একটি স্থান।
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হবে। এখানে মানুষ যেমন অতীতের ইতিহাস জানবে, তেমনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণাও লাভ করবে।
জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয়, জীবনকাহিনি ও আত্মত্যাগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন কীভাবে এবং কেন তারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না; তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা বিশ্বাস করতেন দেশের পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সবার প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহে দীর্ঘ সময়, নিষ্ঠা ও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই দেশের সামনে ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
সবশেষে জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
