জামায়াতের অভিযোগ
‘সিইসি ও ইসি সচিব অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সচিব যদি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন, তাহলে বুঝতে হবে, যাঁরা অনিয়ম করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সিইসি ও ইসি সচিবের আঁতাত রয়েছে। তাঁরা সাংবিধানিক পদে থেকে সেই পদের প্রতি সুবিচার করেননি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। আগামীকাল ঢাকা থেকে খুলনা–কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি ও সার্বিক অগ্রগতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট।
আরও পড়ুন: বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের সাইবার হামলা, ক্রিপ্টো বাজারে ধস
একই দিন নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনও সাংবাদিকদের বলেন, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সমাধান করা হয়েছে।
পরিচয়পত্র ছাড়াই দায়িত্ব পালনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালনের অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাড়াহুড়া করে কাগজে কলম দিয়ে নিজেদের পরিচয় লিখে পকেটে গুঁজে রাখেন। তাঁরা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না।
এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা, জাল ভোট দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লার ভোটারেরা গাড়ি থামান।
এসব অভিযোগের পরও ইসি সচিব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।
তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল থেকে আরও অনেক তথ্য আসছে। সেগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁরা বক্তব্য দেবেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে গণভোটের রায় মানতে হবে। তা না হলে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে দেশের রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে। সরকারই দেশকে সেই পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জামায়াত সংসদের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান চায়।
তিনি বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। সরকার জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান দেখাতে চাইলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, জনগণ গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
