ঈশ্বরদীতে চাহিদার দ্বিগুণ কোরবানির পশু, দুশ্চিন্তায় খামারিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপক সরবরাহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা সারাবছর লালন-পালন করা গরু ও ছাগল এখন হাট, খামার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি শুরু করেছেন। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পশু কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন হাট ও খামারে।
উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ স্থানীয় চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় খামারিরা লাভের আশা দেখছেন। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে এবার প্রায় ৩ হাজার ৫৫ জন খামারি ও গৃহস্থ মিলে মোট ৭৪ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর বিপরীতে স্থানীয় চাহিদা প্রায় ৪৩ হাজার পশু। উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দুইটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গবাদিপশুর খামার এখন গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আমরা খামারিদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছি, যাতে উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাইরেও সরবরাহ করা সম্ভব হয়।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন জানান, বর্তমানে অনেক শিক্ষিত তরুণ গবাদিপশুর খামার গড়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করছেন এবং তারা লাভবানও হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আধুনিক ব্যবস্থাপনায় খামার পরিচালনা করলে এ খাত আরও লাভজনক হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
অরণকোলা এলাকার তানভীর ডেইরি খামারের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া সোহান বলেন, তার খামারে আগে ১৫০ থেকে ২০০ গরু ছিল, বর্তমানে প্রায় ১০০টি গরু রয়েছে। তিনি জানান, “বাজার মোটামুটি ভালো, তবে খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও অনেক বেড়েছে। একটি গরু থেকে ১০–১২ হাজার টাকার বেশি লাভ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাই কঠোর নজরদারির দাবি জানান তিনি।
মুনতাহা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু প্রামানিক বলেন, তারা অনলাইন ও সরাসরি দুইভাবেই গরু বিক্রি করছেন। তার মতে, খামার সঠিকভাবে পরিচালনা করলে লোকসানের ঝুঁকি কম। ক্রেতারা এখন খামার দেখে ও যাচাই করে গরু কিনছেন, যা ইতিবাচক পরিবর্তন।
তোহা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আমিনুল হক বলেন, এবার মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। যদি ভারতীয় গরু না আসে, তাহলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন। তিনি বলেন, এখন অনেকেই হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনছেন, ফলে কেনাকাটা সহজ হয়েছে।
হাট ও খামার সূত্রে জানা যায়, ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ গরু: ৯০-৯৫ হাজার টাকা, ৫ মণ গরু: প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৮–১০ মণ গরু: ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা
খামারিদের মতে, একটি গরু সারাবছর লালন-পালনে ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪ কেজি দানাদার খাদ্য এবং ১৫–১৬ কেজি ঘাস ও খড় লাগে।
ঈশ্বরদীতে এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় খামারিরা বাজারে স্থিতিশীলতা ও লাভের আশা করছেন। তবে সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পশু প্রবেশ করলে দাম কমে গিয়ে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে ঈশ্বরদী আগামীতে দেশের অন্যতম বড় গবাদিপশু সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে।
