সংস্কারের নামে জনদুর্ভোগ, কাদা-পানিতে ডুবেছে ধানগড়া গোলচত্বর
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি : ভোরের কাগজ
টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া গোলচত্বর কাদা ও পানিতে ডুবে গিয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে এখন প্রতিটি পদক্ষেপই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গর্তে জমে থাকা পানির কারণে কোথায় রাস্তা আর কোথায় খাদ—তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো পথচারী ও যানবাহনের চালক।
শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, গোলচত্বরের চারপাশজুড়ে সড়ক ভাঙাচোরা, কাদা ও পানিতে সয়লাব। যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে হেলে যাচ্ছে। পথচারীদের কেউ জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ নিরাপদ পথের আশায় ঘুরপথ ব্যবহার করছেন।
ইঞ্জিনচালিত সিএনজিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন দুঃস্বপ্নের মতো। কখন গাড়ি গর্তে পড়ে বিকল হবে, সেই আতঙ্ক নিয়েই চলতে হয়। বিকল্প রাস্তা না থাকায় যাত্রীদের অভিযোগও সহ্য করতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেলচালক মো. মঞ্জরুল আলম বলেন, বৃষ্টির পানিতে গর্ত দেখা যায় না। সামান্য অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েক দিন আগে তার মোটরসাইকেলও পিছলে পড়ে যায়।
আরো পড়ুন : পাটগ্রাম সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
পথচারী মোছা. রহিমা বেগম বলেন, হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েই এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বর্ষার দিনে কাদা এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। এতে কাপড়-জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
কলেজশিক্ষার্থী মো. সিমান্ত তালুকদার জানান, প্রতিদিন ক্লাসে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো কলেজে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়ে।
পৌরসভার বাসিন্দা ও যুবদল নেতা মো. আশিকুর রহমান প্লাবন বলেন, ধানগড়া গোলচত্বর রায়গঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংযোগ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদা ও পানিতে তলিয়ে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
ধানগড়া গোলচত্বর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়কসংযোগ। এই পথ দিয়েই উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, থানা, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করায় নির্মাণকাজের ধীরগতির প্রভাব পড়ছে পুরো উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকে অগ্রগতি খুবই ধীর। বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খুঁড়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বর্ষার বাকি সময় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ধানগড়া গোলচত্বর এলাকায় সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
