রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ বাবা ও ছেলে
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে বাবা ও ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকায় থাকা অপর ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকার আফছার আলী (৬০) ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম (৫৫)ও ছিলেন। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ফিরছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি বড়কুঠি এলাকার মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ভারসাম্য হারায়। একপর্যায়ে নৌকাটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।

নৌকাডুবির ঘটনা দেখতে পেয়ে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীতীরে অবস্থানরত অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তাঁদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে আনা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল পদ্মার স্রোতে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া জাহেরা বেগম স্বামী ও ছেলের খোঁজ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বারবার তাঁদের নাম ধরে বিলাপ করতে থাকেন। তাঁর আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে কিংবা ডুবে যাওয়া নৌকার কোনো সন্ধান মেলেনি। ডুবুরিরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে পানির নিচে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক বলেন, “আমাদের ছয় সদস্যের একটি ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। তাঁরা পানির নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকার মাধ্যমে নদীর বিভিন্ন অংশেও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পদ্মায় স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবুও নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় নদীপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
