×

রাজশাহী

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, বিপাকে ৩০ হাজার কৃষক

Icon

মো. মাজেম আলী মলিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

কচুরিপানার দখলে চলনবিল, বিপাকে ৩০ হাজার কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও ফসলি জমি কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় মারাত্মক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলার বিলাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমি এখন কচুরিপানার দখলে। ফলে আমন, আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি জলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত কয়েকটি বন্যায় চরম ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার পর এবার কচুরিপানার আগ্রাসনে নতুন করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিলপারের মানুষ। গুরুদাসপুরের খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা, শ্রীপুর, বামনবাড়িয়া, পিপলা, বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ি, যোগেন্দ্রনগর ও মশিন্দা এলাকা এবং সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোলসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের বিল এলাকা বর্তমানে কচুরিপানায় আচ্ছন্ন। বিশেষ করে চলতি বর্ষা মৌসুমে আমন ধান চাষ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা জানান, মাত্র এক বিঘা জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। দৈনিক ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি হিসেবে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে জমি পরিষ্কারের চেষ্টা করলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে তা ব্যাহত হচ্ছে।

বিলশা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই পকেটের হাজার হাজার টাকা শেষ। কয়েক বছর ধরে পরপর বন্যায় ক্ষতি হলেও কোনো কার্যকর সরকারি সহযোগিতা পাইনি। এখন টাকা দিলেও ঠিকমতো শ্রমিক মিলছে না।

এদিকে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে চলনবিলের প্রধান প্রধান নৌপথগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যাতায়াত, ফলে দিনমজুর ও নৌকার মাঝিরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

সাতপুকুরিয়া গ্রামের শিক্ষক টগর হোসেন জানান, যেসব পথে আগে সহজে নৌকা চলাচল করত, এখন সেখানে কচুরিপানার জটে নৌকা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, “চলনবিল দেশের খাদ্য শস্যের অন্যতম প্রধান ভান্ডার। এখানে আবাদ ব্যাহত হলে জাতীয় খাদ্য সরবরাহে চাপ পড়বে। এছাড়া কচুরিপানার ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং পানিবাহিত নানা রোগ ছড়াচ্ছে।”

খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন বলেন, সিংড়া থেকে চাটমোহর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কচুরিপানার নিচে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে এগুলো অপসারণ করা না হলে বিলের কৃষি অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম জানান, “বিলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কম থাকা এবং জায়গায় জায়গায় অবৈধ বাঁধ বা সুতিজাল দেওয়ার কারণে কচুরিপানা আটকে এই জটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কৃষকদের জমি পরিষ্কারের পরামর্শ দিচ্ছি এবং ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরজমিনে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলকে বাঁচাতে অবিলম্বে সরকারি খরচে সমন্বিতভাবে কচুরিপানা অপসারণ, জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

আম পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

আম পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

টানা ৫ দিন বৃষ্টিপাতের আগাম বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

টানা ৫ দিন বৃষ্টিপাতের আগাম বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের খনন শুরু করেছে বাপেক্স

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের খনন শুরু করেছে বাপেক্স

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App