বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে লালমনিরহাটে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে জেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, আর নদীসংলগ্ন জনপদে দেখা দিয়েছে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে।
সকাল ৬টার বুলেটিন অনুযায়ী, নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়ে ৫২ দশমিক ২৮ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ১৩ সেন্টিমিটার বেশি।
পানি বাড়তে থাকায় তিস্তা তীরের নদী রক্ষা বাঁধ, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লালমনিরহাটের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নভূমি প্লাবিত হওয়ায় অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলাই এখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
আরো পড়ুন: জেলের জালে ধরা পড়লো দেড় মণের তবল মাছ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষা বাঁধগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বড় ধরনের ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, “পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। এভাবে বাড়তে থাকলে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।”
সিন্দুর্না চরের বাসিন্দা আদিলুর রহমান বলেন, “উজানের ঢল আর বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সামান্য পানি বাড়লেই এলাকা তলিয়ে যায়। এবার পানির পাশাপাশি নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
এদিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
