×

রমজান

ডায়াবেটিসে নিরাপদ ইফতার: কী রাখবেন প্লেটে?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ডায়াবেটিসে নিরাপদ ইফতার: কী রাখবেন প্লেটে?

ছবি : সংগৃহীত

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা রাখা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভুল খাদ্য নির্বাচন করলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে একজন ডায়াবেটিস রোগীও নিরাপদ ও সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারেন। তাই ইফতারের সময় পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি আদর্শ ইফতারি প্লেটের গাইডলাইন তুলে ধরা হলো:

১. ইফতারের শুরু হোক পরিমিত খেজুর দিয়ে

খেজুরে প্রচুর চিনি থাকলেও এতে ফাইবার ও খনিজ আছে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরিমাপ জরুরি।

পরামর্শ: ইফতারে ১টির বেশি খেজুর না খাওয়াই ভালো। খেজুরের বদলে ১-২টি কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম দিয়েও ইফতার শুরু করা যেতে পারে।

২. পানীয় নির্বাচনে সতর্কতা

সারাদিনের তৃষ্ণা মেটাতে মিষ্টি শরবত বা কৃত্রিম জুস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য 'বিষবৎ'।

সেরা পছন্দ: ডাবের পানি, লেবুর চিনিছাড়া শরবত বা তোকমা-ইসবগুলের ভুসি মেশানো সাধারণ পানি।

বর্জনীয়: প্যাকেটজাত জুস, কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত লাচ্ছি।

৩. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বাছাই

ইফতারে সাদা চালের মুড়ি বা চিঁড়ার বদলে জটিল শর্করা (Complex Carbs) বেছে নেওয়া উচিত, যা রক্তে চিনি ধীরে ধীরে ছড়ায়।

সেরা পছন্দ: লাল চালের জাউ ভাত, ওটস, বা গমের তৈরি লাল আটার রুটি।

সবজি ও ছোলা: তেলের পরিমাণ কমিয়ে সেদ্ধ ছোলা বা ঘুগনি খাওয়া যেতে পারে। সাথে প্রচুর পরিমাণে শসা, ক্ষীরা ও সালাদ রাখতে হবে।

৪. প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট

পেশির ক্ষয় রোধে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য।

সেরা পছন্দ: সেদ্ধ ডিম, গ্রিল করা বা ঝোলে রান্না করা মুরগির মাংস অথবা মাছ। দই বা ছানাও একটি ভালো বিকল্প।

৫. আইটেম ও পরিমাণ: খেজুর ১টি, ডাবের পানি ও নরমাল পানি ১-২ গ্লাস, ছোলা আধা কাপ, শসা ও লেবুর সালাদ ১ বাটি, টক দই আধা কাপ ফল (আপেল/পেয়ারা) ১-২ টুকরো

৬. বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি টিপস

ক. ভাজাপোড়া বর্জন: বেগুনি, পিয়াজু বা আলুর চপ রক্তে শর্করা বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যাসিডিটি তৈরি করে। এগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

খ. ধীরে খাবার গ্রহণ: ইফতারে তাড়াহুড়ো করে না খেয়ে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে। এতে হজম ভালো হয় এবং গ্লুকোজ হুট করে বেড়ে যায় না।

গ. সুগার চেক করা: ইফতারের ২ ঘণ্টা পর অবশ্যই সুগার মেপে দেখতে হবে। যদি সুগার লেভেল ৩.৯ মিলিমোল/লিটার এর নিচে বা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার এর উপরে চলে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজান মাসে পরিমিতিবোধই হলো সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। সেহরি ও ইফতারের মাঝে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিলে ঝুঁকি ছাড়াই রোজা রাখা সম্ভব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নামাজের ইমামতি রেখে পালানো বহিষ্কৃত বিএনপি গ্রেফতার

নামাজের ইমামতি রেখে পালানো বহিষ্কৃত বিএনপি গ্রেফতার

কিশোরীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

কিশোরীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

পাবনায় সাত সমকামীসহ ১৬ জনের এইডস শনাক্ত

পাবনায় সাত সমকামীসহ ১৬ জনের এইডস শনাক্ত

পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রদবদল

পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রদবদল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App