নদীতে গোসলে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই কিশোর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে নামলেও সাঁতার না জানা থাকায় তারা দুজনেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে কায়িশাবাড়ি এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানার (১৬)। তাদের দুজনের বাড়ি হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে অহিদ ও মাসুদসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে বাড়ির অদূরে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে সাঁতার না জানায় অহিদ ও মাসুদ গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে তাদের উদ্ধার করেন। তবে নদী থেকে তোলার আগেই অহিদ ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় মাসুদ রানাকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাসুদ রানা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত এবং সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত। কয়েকদিন আগে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সে গ্রামে এসেছিলো। অন্যদিকে, নিহত অহিদ ইসলামের বাবা গ্রামে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এদিকে, চোখের পলকে দুই কিশোরের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মাসুদের মা কাজলী বেগম এখন প্রায় পাগলপ্রায়। ছেলের মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। স্বজনরা জ্ঞান ফেরালেই বিলাপ করে কাঁদছেন আর বলছেন, “বাবা মাসুদ, তুই হামাক ছাড়ি কই গেলু। মোর বুকটা কেন খালি করলু। মুই তোক ছাড়ি বাঁচিম কেমন করি। তুই আর ঢাকা যাবু না।”
অন্যদিকে, মাসুদের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একটাই তো ছেলে আমার। ছেলেকে নিয়ে আমরা ঢাকায় থাকতাম। গ্রামে কোরবানির ঈদ করতে আসছিলাম, এসে আমার বাবাটাকেই কোরবানি দিয়ে দিলাম। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে বেহেশত দান করেন। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।
তারাগঞ্জ থানা-পুলিশের ওসি রুহুল আমনি বলেন, ‘ইউপি সদস্যের মাধ্যমে আমরা সাড়ে ১২টার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। বেলা ১টার দিকে একজনের মরদেহ ও দেড়টার দিকে আরেক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতাহাল হয়েছে, মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।’
