তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৩০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
প্রতিদিন মহিপুরের তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে অন্তত ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ ভাঙনে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কাসহ লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে সেতুটি হুমকির মুখে পড়ে। তখন ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে অস্থায়ীভাবে রক্ষার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেই পাইলিং ভেদ করেই আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন : ১১ মামলার অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, নদীতে পানি বাড়লেই ভাঙন দেখা দেয়। আমরা এখন ভীষণ আতঙ্কে আছি।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতি এলাকার শাহনাজ বেগম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাই। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
তিস্তা সেতু এলাকার শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পানি আরো বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীগর্ভে চলে যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর ভাঙন দেখা দিলে ব্লক দিয়ে স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছিলাম, কিন্তু তা করা হয়নি। এবার ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিংও ভেঙে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে সেতুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে ওই পাইলিং বসানো হয়েছিল। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
