রংপুরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
সাংবাদিক শাবিন শাহরিয়ার মীম। ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে এক সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনায় রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের রংপুর জেলা প্রতিনিধি শাবিন শাহরিয়ার মীম (২৮) জিডি করেন। তিনি স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিআরবি নিউজের প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশকও।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে এটিএন নিউজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে প্রায় ছয় মিনিট কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জিডিতে হুমকিদাতা হিসেবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন সুমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক শাবিন শাহরিয়ার মীম বলেন, সম্প্রতি তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এসব প্রতিবেদনের ফলে মেডিকেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট ভেঙে যায় এবং প্রশাসনও কঠোর অবস্থান নেয়।
তার অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের জন্য মেডিকেল কলেজে গেলেই মাহবুব হোসেন সুমন তাকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করতেন। তিনি দাবি করেন, সুমনের বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হওয়ায় তিনি ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
শাবিন শাহরিয়ার মীম বলেন, “থানায় জিডি করেছি। ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।”
রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন সুমন বলেন, “শাবিন শাহরিয়ার মীম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করত। সে সময় আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি ডিসি মারুফেরও তিনি সোর্স হিসেবে কাজ করেছেন। মীম ছাত্রলীগের সাদ্দামের আত্মীয়।
তিনি সাংবাদিকতাকে চাঁদাবাজির আখড়ায় পরিণত করেছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে টাকা আদায় করাই তার কাজ। আমার একটি রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে আমি আমার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পোস্ট দিচ্ছি। তিনি সেসব পোস্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য ও পোস্ট করেন। বিষয়টি জানালে তিনি ভুল স্বীকারও করেছিলেন।
তার প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের কারণে মানুষ এখন সাংবাদিকদের ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলে। ইদানীং তিনি আমাকে নিয়ে নিয়মিত পরোক্ষভাবে (ইনডাইরেক্টলি) পোস্ট করছেন। এতে আমি মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। সম্প্রতি আমি ঢাকায় গেলে তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বৈঠক করেন। বিষয়টি জানার পর আমি তাকে ফোন করে গালাগাল করেছি, তবে হত্যার হুমকি দেইনি।
ডিসি মারুফের ফোনকলের সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) বের করা হলে মীমও জুলাই হত্যা মামলার আসামি হতো।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, “জিডিটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে যে অডিও রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে, সেটি সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
