‘ভোরের কাগজ’-এ রিপোর্ট প্রকাশ
নীলফামারীর মানববর্জ্য সংশোধনাগার নিয়ে নতুন উদ্যোগ
মো.রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ফাইল ছবি
মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে নীলফামারীতে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক মানের স্যানিটারী ল্যান্ডফিল এন্ড ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। তবে দক্ষ লোকবল আর প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ না থাকায় চালুর ৩ বছরেও রাজস্ব আয়ে কোন আলোর মুখ দেখেনি বৃহত এ প্রকল্পটি। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান শেষে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'ভোরের কাগজ'।
সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর-পরই ওই ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নজর দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। রাজস্ব আয়ের এ বৃহত প্রকল্পটি কার্যকর করতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ। প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ স্থাপন আর দক্ষ লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে এ প্রকল্প দ্বারা ঘুরতে পারে নীলফামারী পৌরসভার অর্থনীতির চাকা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীলফামারী পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর, মো. আব্বাস আলী বলেন, “পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানববর্জ্য সংশোধনাগারটি পৌর এলাকায় এক অভাবনীয় মাত্রা যুক্ত করলেও, দক্ষ লোকবল আর প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ না থাকায় দীর্ঘ দিনেও কোন আলোর মুখ দেখেনি বৃহত এ প্রকল্পটি। এরই ধারাবাহিকতায় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে নতুন করে প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ আর দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”
জানতে চাইলে, নীলফামারী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী তারিক রেজা জানান, “রাজস্ব আয়ের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক মানসম্পন্ন এই ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পটি। কিন্তু এ প্রকল্পটিতে প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ আর দক্ষ জনবলের অভাবে অপঁচনশীল বন্তু পৃথকীকরণ না হওয়ায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ স্থাপনসহ দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এটিকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ”
তিনি আরও বলেন, “এ প্রকল্পটিকে নতুন ভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পথ সুগম করবে নীলফামারী পৌরসভা। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ পাবে এখানকার অনেকেই।”
এ বিষয়ে নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “পরিকল্পনা অনুযায়ী এ ট্রিটমেন্ট প্রকল্পটির রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে নীলফামারীর অর্থনীতির এক উদাহরণ তৈরী করতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে তৈরি সেপারেটর মেশিন দ্বারা পলিথিনসহ সকল অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে এটিকে কার্যকর করার ব্যবস্থা বাস্তবায়নাধীন।”
তবে, প্রতিষ্ঠানটিতে পলিথিনসহ সকল অপচনশীল বস্তু আলাদা করে শুধুমাত্র প্রাপ্ত মাটি থেকেই আয় হতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকা বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
