×

রংপুর

কোটি টাকার সেতুতে উঠতে লাগে 'কাঠের সাঁকো'

Icon

হাবিবুর রহমান হবি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

কোটি টাকার সেতুতে উঠতে লাগে 'কাঠের সাঁকো'

ছবি: ভোরের কাগজ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। তবে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বাধ্য হয়ে সেতুতে ওঠার জন্য বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি দৃশ্যত সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই প্রান্তে রয়েছে গভীর গর্ত ও অসমতল জায়গা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি অস্থায়ী সাঁকো। যা বর্তমানে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্য কোনো ছোট-বড় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও পারাপার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্য কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও সেতু পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছবি: ভোরের কাগজ

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজগামী অনেক শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হতে দেখা গেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কোটি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।’

শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যায়। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে সেতুটি আমাদের কোনো উপকারে আসছে না।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড়াইকান্দি খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রামিম এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। এই বছরের জুনের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়। প্রকল্পের ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির উভয় পার্শ্বে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণ না করেই তুলে নিয়েছেন পুরো বিল তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন মাস আগে কাজ শেষ হলেও এখন সেতুর দুই ধারে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তার বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের ৫ নির্দেশনা দিলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের ৫ নির্দেশনা দিলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে আজ

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে আজ

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাল ট্রাম্প

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাল ট্রাম্প

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App