তিস্তায় হু হু করে বাড়ছে পানি, খোলা হলো ৪৪টি জলকপাট
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় টানা অতিভারী বর্ষণ এবং সেখান থেকে নেমে আসা উজান থেকে প্লাবনের পানির কারণে তিস্তা নদীতে তীব্র গতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বন্যার শঙ্কায় পড়েছেন তিস্তার মানুষ।
দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি (মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে) পৌঁছায় ব্যারেজের নিরাপত্তা ও পানির সমতা রক্ষার্থে ৪৪টি জলকপাটই (স্লুইসগেট) খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার— যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে।
এদিন সকাল ৬টা ও সকাল ৯টা— দুই সময়েই পানির উচ্চতা একই পর্যায়ে স্থির ছিল। এর আগে গত কয়েকদিনে পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢলের চাপে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ভারতে গজলডোবা বা মেখলিগঞ্জ পয়েন্ট থেকে পানি ব্যারাজে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। ঢলের কারণে নদীর স্রোত ও পানির মাত্রা দুটিই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় পাউবো কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের সিকিম ও মেঘালয় অঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের নদী অববাহিকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের বড় ধরনের পূর্বাভাস রয়েছে।
নদীগুলোর পানি সমতল দ্রুত বাড়ায় যে-কোনো মুহূর্তে তিস্তাসহ অন্যান্য নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
পানি বাড়ায় নীলফামারীর ডিমলা (পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ, ছাপানি), জলঢাকা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদরের নিম্নাঞ্চলের চর এবং নদীতীরবর্তী বসতবাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়, চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের রোপা আমনের বীজতলা ও নতুন বোনা আমন ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু জায়গায় নেওয়া শুরু করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের তীব্রতার কারণে নদীর পানি খুব দ্রুত ওঠানামা করছে। পানির চরম চাপ সামাল দিতে এবং ব্যারেজ রক্ষায় ৪৪টি গেটই খোলা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সার্ভেইল্যান্স চালু রাখা হয়েছে।
লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরের স্থানীয় জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে এবং জরুরি উদ্ধার কাজ বা ত্রাণের প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
